ইতালির ঐক্যের পথে প্রধান বাঁধা -
উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত পিডমেন্ট-সার্ডিনিয়া ছাড়া ইতালির বাকি অংশ বিদেশিদের অধীনস্থ ছিল। এই খণ্ড বিখন্ড ইতালির সংযুক্তির পথে যে প্রধান বাঁধা গুলি ছিল তা হল -
বিদেশি শাসন ঃ ইতালির পিডমেন্ট-সার্ডিনিয়া ছাড়া বাকি অংশে অস্ট্রিয়া -সহ বিভিন্ন বিদেশি শক্তির আধিপত্য ছিল। বিদেশীরা ইতালির ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিরোধী ছিল।
দমননীতি ঃ ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান নায়ক অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিক দমননীতির মাধ্যমে ইতালিবাসীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ধ্বংস করে দিয়েছিল।
পোপের ক্ষমতা ঃ মধ্য ইতালির শাসক ছিল খ্রিস্টান জগতের ধর্মগুরু পোপ। তাঁর প্রতি ইউরোপের ক্যাথলিক রাষ্ট্রগুলির সমর্থন ছিল। এরফলে তাকে সরিয়ে ইতালির ঐক্য স্থাপন অসম্ভব ব্যাপার ছিল।
জাতীয় চেতনার অভাব ঃ ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লবের আগে পর্যন্ত ইতালি বাসীর মনে জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটেনি।
আঞ্চলিকতা ঃ ইতালির বিভিন্ন রাজ্যগুলির মধ্যে তীব্র আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক মনোভাব বজায় ছিল। ফলে তারা ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে বৃহৎ ইতালির ঐক্য সাধনের জন্য রাজি ছিল না।
মূল্যায়ন ঃ বিভিন্ন ঐতিহাসিক মনে করেন যে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ভিয়েনা সম্মেলনের মাধ্যমে ইতালির ওপর তিন ধরণের অন্যায় করা হয়েছিল। যেমন -
(i) রাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে ইতালির ঐক্য নষ্ট করে দেওয়া হয়।
(ii) ইতালির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করা হয়।
(iii) ইতালির বিভিন্ন অংশে বিদেশি আধিপত্য স্থাপন করা হয়।